বিশ্বজিৎ হালদার (Biswajit Halder)

বিশ্বজিৎ হালদারের জন্ম ও বড় হওয়া ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলায়। তিনি বর্তমানে, কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের, ইউ জি সি সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডি (ফেজ ৩) এর তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগীয় প্রকল্প সহায়ক। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্মানিক স্নাতক। বাঙলা ভাষায় স্নাতকোত্তর উপাধি পেয়েছেন। এছাড়া তুলনামূলক সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ও এম ফিলl উপাধিপ্রাপ্ত (যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়)। তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা বিভাগের পি এইচ ডি উপাধিও অর্জন করেছেন। আগে (মার্চ ২০১১ – ২০১৫) তিনি ইউ জি সি সে৩ন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডি (ফেজ ২)এর তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগে তিনি প্রজেক্ট ফেলো হিসাবে কাজ করেছেন। তাঁর বিশেষ আগ্রহের বিষয় লোক সংস্কৃতি ও সেই বিষয়ে তথ্যমূলক বর্ণনা, লোকমুখে প্রচলিত আখ্যান, করণ শিল্প সম্পর্কিত বিদ্যা, দেশজ ঐতিহ্য। তিনি অনেক প্রবন্ধ ও বইয়ের রচয়িতা, যেমন 'লোক ঐতিহ্যের ধারায় দুই চব্বিশ পরগণার শিব সংস্কৃতিঃ চড়ক, ধর্মদোল, গাজন ও বালাগান' (২০১৩), 'রামায়ণ গানঃ চব্বিশ পরগনার রামকথার মৌখিক ঐতিহ্য' (২০১৫)|

বাংলার তরজাগানের একটি পরম্পরীণ ইতিহাস আছেব্রিটিশ শাসনের শুরুর দিকে পুরোনো জমিদারি ব্যবস্থায় ফাটল, রাজনৈতিক-সামাজিক অস্থিরতা প্রভৃতির মূল্যস্বরূপ মূলত শহরে বাস করা একশ্রেণির মানুষের প্রচেষ্টায় আখড়াই, হাফ-আখড়াই, ঢপ, কবিগান, আর্যা, তরজা ইত্যাদির প্রাদুর্ভাব ঘটেছিল পরবর্তীকালে সংগীতের এইসব ধারা বাংলার সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে মূলত নাগরিক সংস্কৃতির হাত ধরে উদ্ভব হলেও কালক্রমে গ্রামীণজীবনেও তরজা সমাদর পায় বর্তমানে উত্তর দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, নদীয়া, হাওড়া, হুগলী, বাঁকুড়া, মেদিনীপুর, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ প্রভৃতি জেলাগুলিতে তরজার প্রচলন লক্ষ করা যায় তরজা হল হেঁয়ালি বা প্রহেলিকাধর্মী ছড়াগান, যা দুই মূল গায়েন তাঁদের সহকর্মীদের নিয়ে বাদ্যযন্ত্র সহযোগে ছদ্ম লড়াইয়ের মাধ্যমে আসরে পরিবেষণ করে থাকেন এর বিষয়বস্তু মূলত পৌরাণিক তরজার গায়েনরা রামায়ণ, মহাভারত, বেদ-পুরাণের কাহিনি নিজেদের জ্ঞান এবং মেধা অনুযায়ী চয়ন করে এনে আসরে উপস্থাপন করেনবর্তমানে বিশ্বায়নের বেনোজলে বাংলার তরজাগানের ঐতিহ্য অবলুপ্তির পথে তাই সাম্প্রতিক নানান উদ্দেশ্যমূলক কাজে এই গানকে ব্যবহার করে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে বাংলার নিজস্ব ঐতিহ্য এই সঙ্গীত-নাট্যধারাটি

মূল রচনা
মুর্শিদকুলি খাঁর সাধের বাংলা তাঁর জামাতা সুজাউদ্দিন এবং দৌহিত্র সফররাজের অকর্মণ্য স্বভাব আর ভোগ-বিলাসিতার ফলে একদিন চলে যায় আলিবর্দী খাঁর হাতে মুর্শিদকুলির তো আলিবর্দীও মোটামুটি সুশাসন বজায় রাখবার চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু খ্রিস্টীয় ১৭৪২ থেকে ১৭৫১-এর মধ্যে একাধিক বার বর্গী হানা বাংলার অর্থনীতিকে কেবল যে পর্যুদস্ত করে ফেলে তা নয়, জনসাধারণের মনেও আতঙ্কের চিহ্ন এঁকে দেয় দেশের অরাজকতার এই চিত্র গঙ্গারামের মহারাষ্ট্র পুরাণ- কিছুটা আছেআলীবর্দী এই সময় রাজকোষের অর্থ ঘাটতি মেটাতে জমিদার এবং বণিকদের উপর চাপ দিতে থাকে পর্তুগীজ মগ জলদস্যুদের দাপটে পূর্ব পশ্চিমবঙ্গের অবস্থাও তখন সঙ্কটাপন্ন এরপর পলাশীর যুদ্ধে সিরাজের ভাগ্যবিপর্যয়ের ফলে ইংরেজশক্তির অভ্যুত্থান ঘটলে বাংলার সমাজ-জীবনে ঘটে যায় আমূল পরিবর্তন

ব্রিটিশ শাসনের শুরুর দিকে পুরনো জমিদারি ব্যবস্থায় ফাটল ধরলে বহু জমিদার-অধিন্যস্ত কর্মচারী বিকল্প আয়ের উদ্দেশ্যে শহরে এসে ভিড় জমায় এদের হাতে উদ্বৃত্ত কিছু পয়সাও ছিল এরা পরে অনেকেই বেনিয়া, শেঠ, বণিক ইত্যাদি নামে পরিচিত হয়েছে এছাড়াও শহরের কিছু হঠাৎ নবাব ইংরেজ রাজকার্যে প্রত্যক্ষ পরোক্ষ সহযোগিতার ফলে এই সময় থেকে অর্থ সম্পত্তিতে ফুলে-ফেঁপে উঠতে থাকে সাধারণ মানুষের অবস্থা যতই খারাপ হতে থাকুক না কেন, রাজনৈতিক সামাজিক অস্থিরতা নগরগুলিকে বিলাস-ব্যসনের লীলাকেন্দ্রে পরিণত করে ফেলে এইসব নববাবুদের উদ্বৃত্ত সম্পত্তি ব্যয়ের অন্যতম জায়গা ছিল সান্ধ্য আসরগুলি এখানে তারা নীতি-নৈতিকতার তোয়াক্কা না করে নির্বিচারে বিলাস-কেলি-কৌতুক-সুখ-সম্ভোগে গা ভাসতো এদের মধ্যে সকলেই যে আকাট মূর্খ ছিল তা নয়, তবে কাব্যরস আস্বাদনের চেয়ে এদের কাছে বড় অভিপ্রায় ছিল তাৎক্ষণিক বিনোদন লাভ আখড়াই, হাফ-আখড়াই, ঢপ, কবিগান, আর্যা, তরজা ইত্যাদির আবির্ভাব ঘটেছিল এদেরই প্রচেষ্টা এবং অর্থানুকূল্যে শিবনাথ শাস্ত্রী মহাশয় এই সব অসংযমী বাবুদের দিবারাত্রি যাপনের একটি লোমহর্ষক দৃষ্টান্ত দিয়েছেন তাঁর রামতনু লাহিড়ী তৎকালীন-বঙ্গসমাজ গ্রন্থে|[i]

সুকুমার সেন মহাশয় লিখেছেন যে,

অষ্টাদশ শতাব্দীতে বিদ্যাসুন্দর কাহিনীর সমাদর হইয়াছিল পশ্চিমবঙ্গে ভাগীরথীর তীরবর্ত্তী অঞ্চলে ইহার কারণ আর কিছুই নহে, পতনশীল মুসলমান সম্রাট নবাবদিগের দরবারের আড়ম্বর এই অঞ্চলের শিক্ষিত সমাজের মনকে ধীরে ধীরে প্রভাবিত বিষাক্ত করিয়া তুলিতেছিল সমাজও তখন অবনতিপ্রবণ, সুতরাং এই সময়ের বিদ্যাসুন্দর প্রণয়কাহিনীতে এবং বিকৃতরুচি তরজা কবিগানে তখনকার দিনে শিক্ষিত ধনী সম্প্রদায়ের বিকৃতরুচির পরিচয় মিলিতেছে[ii] 

তরজার উদ্ভব

নদে শান্তিপুর হৈতে খেঁড়ু আনাইব
নূতন নূতন ঠাটে খেঁড়ু শুনাইব।।[iii]  

মহারাজা নবকৃষ্ণ দেব বাহাদুর ছিলেন এই খেঁড়ু বাখেঁউড়গানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক নবকৃষ্ণের অনুচর মণ্ডলীর মধ্যে একজন ছিলেন কুলুইচন্দ্র সেন কুলুইচন্দ্র ছিলেন সংগীতজ্ঞ মানুষ তাঁর প্রচেষ্টায় ঊনবিংশ শতকের শুরুতে খেউড় গান ওস্তাদি ঢঙে মার্জিত হয়ে আখড়াইয়ের রূপ ধারণ করে এরপর কুলুইচন্দ্র সেনের নিকট আত্মীয় নিধুবাবুর (রামনিধি গুপ্ত: ১৭৪১-১৮৩৮) হাতে আখড়াইয়ের সমৃদ্ধি ঘটে দশশালা বন্দোবস্তের সময় নিধুবাবু ছাপরায় গিয়ে হিন্দুস্থানি সংগীতের চর্চা করেন এবং এই সময় তিনি হিন্দি গান ভেঙে টপ্পা রচনায় মন দেন পরে কলকাতায় ফেরার পর তিনি শোভাবাজারে বটতলার পশ্চিমাংশে বড় একখানা আটচালাতে প্রতি রাতে সংগীতের আলাপ চালাতে থাকেন শোভাবাজার বটতলা নিবাসী বাবু রামনারায়ণ মিত্র মহাশয়ের আটচালাতেও সর্বদা পক্ষী’(রূপচাঁদ পক্ষী/R.C.D.) দলের উল্লাস চলতো দলের পক্ষীরা ছিলেন বক্তা, কবি বাবুগোছের লোক এই দলে নিধুবাবুর সমাদর ছিল

আখড়াই ছিল অল্প কথা সংযোগে সুর এবং তালের (বাজনার) মূর্ছনা অর্থাৎ রাগরাগিণীর প্রাধান্যএই ধরণের গান দরবারি আসর ছাড়া সাধারণ দর্শকদের জন্য চলতে পারে না তাছাড়া এইসব রাগরাগিণী হৃদয়ঙ্গমের জন্য যে সমঝদার শ্রোতার প্রয়োজন, ক্ষণিকের আনন্দ পেতে আসা বাবুদের মধ্যে সেই গুণ সকলের ছিল নাফলে আখড়াই ভেঙে সৃষ্টি হল হাফ-আখড়াইয়ের নিধুবাবুর সংগীতশিষ্য বাগবাজার নিবাসী মোহনচাঁদ বসু গুরুর সহযোগিতায় এই হাফ-আখড়াই প্রতিষ্ঠা করেন আখড়াই গানে দুই দলের মধ্যে উক্তিপ্রত্যুক্তিমূলক দ্বন্দ্ব ছিল না, কিন্তু হাফ-আখড়াইতে সেই রীতির প্রচলন ঘটে পরবর্তীকালে কবি কিংবা তরজাতে দুই গায়েনের যে দ্বন্দ্ব লক্ষ করা যায় তা সম্ভবত এই হাফ-আখড়াইয়ের নিদর্শনে হাফ-আখড়াই ছিল মূলত প্রণয় ঘটিত এর দুটি অঙ্গ সখীসংবাদএবং খেউড়এদের প্রত্যেকের মধ্যে আবার তিনটি প্রধান অংশ ছিল মহড়া, তেহারান(refrain) এবং চিতেন একদল আসরে উঠে সখীসংবাদগেয়ে গেলে অপর দলকে উঠে তার প্রত্যুত্তরে সখীসংবাদ গাইতে তোপ্রতিপক্ষের গানের উত্তরের সঙ্গে যদি চাপান থাকতো তাহলে অপর দলকে আবার আসরে উঠে তার উত্তর দিতে তোসখীসংবাদের পর খেউড় গাওনা ছিল রীতি খেউড়ে শালীনতার সীমা থাকতো না

কিন্তু এর পূর্বেও তরজার অস্তিত্ব ছিল বৃন্দাবন দাসের শ্রীশ্রীচৈতন্যভাগবততরজা নিদর্শন আছে কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামীর 'এই তরজার অর্থ বুঝিতে নারিল', 'তরজা না জানি অর্থ কিবা তাঁর মন', 'মহাযোগেশ্বর আচার্য্য তরজাতে সমর্থ আমিও বুঝিতে নারি তরজার অর্থ।' প্রভৃতি উক্তিতে পাই তারই আভা এখানে উল্লেখ্য যে, যে প্রহেলিকাধর্মী উক্তি তরজার প্রাণ মহাভারতেও সেই ধরণের বহু উক্তি বা ব্যাসকূটে ব্যবহার আছে যথা, বারনাবতে যাবার সময় বিদুর যুধিষ্ঠিরকে উপদেশ দিয়েছেন এই রকম প্রহেলিকা

কেউ কেউ আবার শিবের কিংবা ধর্মের গাজনের সঙ্গে তরজা সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেছেন যেমন বাংলা গানের ইতিবৃত্ত লিখতে গিয়ে সাবিত্রী ঘোষ বলেছেন, 'অষ্টাদশ শতাব্দীর আগে থেকেই ঢোল কাসি সহযোগে ছড়া কেটে গান করবার রীতি ছিল, আর এই ছড়াগুলি শৈব সন্ন্যাসীরা ধর্মঠাকুর শিবের গাজন উপলক্ষ্যে পথে পথে গেয়ে বেড়াতেন এর নাম আর্যা কিংবা তরজা'[iv] তরজার সঙ্গেআর্যারও আঙ্গিকগত মিল লক্ষ করা যায় সংস্কৃত আর্যা ছন্দে লিখিত এই গান ছিল উত্তর-প্রত্যুত্তরময় ছড়া

তরজা শুধু যে বাঙালীর পরম্পরাগত ইতিহাসের হদিস দেয় তা নয়, বিদেশেও এর সমাদর লক্ষ করেছেন কোনো কোনো লেখককলিকাতার পুরাতন কাহিনী রচয়িতা সম্পর্কে বলেছেন, 'তরজা মানে গালমন্দ এটা সব সময় নয়; সেটা পরস্পর রাগিয়া যাইলে করিত লাহরে এইরূপ তরজা দেখিয়াছি, রোমে এইরূপ তরজার প্রচলন ছিল জুলিয়াস সিজারের যখন জয়ন্তী উৎসব হয়েছিল তখন এক সিরিয়ান গোলামকে এম্পিথিয়েটারে আনিল তাহার দোহার কেহ ছিল না অবশেষে এক বৃদ্ নাইট-কে তরজা লড়িতে আদেশ করিল বুড়া তরজা গাহিল|'[v]

তরজার অর্থ
আরবি তরজিবন্দ’ (অর্থ কবিতার চরণ যা কবিতায় ঘুরে ঘুরে আসে) শব্দ থেকেতরজাশব্দের উৎপত্তি বলে মনে করা হয়[vi]বঙ্গীয় শব্দকোষ গ্রন্থে তরজা অর্থ সম্পর্কে বলা হয়েছে যে তর্জ্জা হল কবিগানজাতীয় লোকসঙ্গীত বিশেষ|[vii] তরজা বাগযুদ্ধ সর্বস্ব রচনা থেকে তরজার আজ আটপৌরে অর্থ দাঁড়িয়েছে ঝগড়া, প্রগলভতা ইত্যাদি

তরজা হল হেঁয়ালি বা প্রহেলিকা, যা তাৎক্ষণিকভাবে ছড়ার আকারে রচিত এবং গানের আকারে আসরে পরিবেশিত হয়ে থাকে কেউ কেউ মনে করেছেন পাঁচালি, কবিগান যখন দাঁড়াকবির রচনা থেকে পৃথক হয়নি তখন তরজা এই রকম কথা-কাটাকাটিপূর্ণ ছড়া গানেই নিবদ্ধ ছিল পরবর্তীকালে দাঁড়া কবিদের পাণ্ডিত্য ত্যাগ করে লোকরুচির দিকে লক্ষ রেখে তরজা তার নিজস্ব ঢঙ বজায় রেখেছে[viii]

তরজা পরিবেষণের রীতি

'তখনকার দিনে তরজার খুব প্রচলন ছিল এখনও আছে তবে অতি অল্প পরিমাণে তরজাওয়ালারা রাগিয়া গেলে অশ্লীল ভাষায় গান করিত, না হইলে অতি ভক্তিভাবে গান করিত অনেক জায়গায় বেশ সুন্দর ভাব থাকিত ছন্দটা প্রায় চোদ্দ অক্ষরের পয়ার, লঘু দীর্ঘ ত্রিপদী থাকিত।'[ix]

তরজাগানে দুটি দল থাকেপ্রতিটি দলে থাকে দুজন কবিয়াল তাঁদের সহকারিবৃন্দ তরজার পদগুলি রচিত হয় ছড়ার ছন্দেঢোল-কাঁসির সহযোগে মূলগায়েনরা প্রশ্নোত্তরমূলক এই ছড়াগুলির সাংগীতিক রূপ দেন 

তরজাগান পরিবেশন পদ্ধতি কবিগানের অনুরূপ তবে এর বিষয় ব্যাপ্তি কবিগানের চেয়ে সহজ সংক্ষিপ্ত কবিগানের মতো কাহিনির পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা তরজায় থাকে না তরজার কোনো আসরে প্রথমে থাকে বন্দনা দেবস্ত্ততি, তারপর সরস্বতী বন্দনা, আসর বা সভা বন্দনা ইত্যাদি এরপরেই শুরু হয়চাপানউতোরপর্ব।  চাপান অংশে একজন প্রশ্ন করেন এবং উতোর অংশে অন্য জন তার উত্তর বা কাটান দেন কাটানে পর তিনিও আবার প্রতিপক্ষকে প্রশ্ন চাপান এইভাবেই চলতে থাকে তরজার আসরে বাগযুদ্ধ সর্বস্ব খেলা শেষে মিলন যেখানে দুজনে একত্রে উঠে গানের লহরি তোলেন 

তরজাওয়ালাদের গানে দাঁড়া অর্থাৎ বাঁধা গীতের ব্যবহার কিছু কিছু লক্ষ করা যায়বন্দনাগীত, ধুয়া, মিলনসংগীত -এগুলি মূলত পূর্বোরচিত পদ, এছাড়া বাকি সবটাই তাৎক্ষণিক রচনা কারণ, সময়, স্থান এবং উপস্থিত দর্শক-শ্রোতা এবং প্রতিপক্ষের চাপান অনুযায়ী গানের এই বাঁধা গত অনেক সময় খাটে নাতখন গায়েনদের নতুন নতুন উদ্ভাবন ক্ষমতার উপর আসর নির্ভরশীল হয়ে পড়েপ্রত্যুৎপন্নমতী গায়েনরা এই ক্ষমতার অধিকারী তরজা তাই অশিক্ষিত বা নিরক্ষর লোকের পেশা নয় এখানে মূলগায়েনকে অতীত বর্তমান, পুরাণ-অর্বাচীন -কালের যাবতীয় বিষয় সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হতে হয়; নইলে প্রতিপক্ষের প্রশ্নবাণে তাঁর পরাজয় অনিবার্যআর আসরে উঠে কেউ সহজে পরাজয় স্বীকারের জন্য আসেন না নিশ্চয়!   

বর্তমানে তরজার বিকাশ 
মূলত নাগরিক সংস্কৃতির হাত ধরে উদ্ভব হলেও কালক্রমে গ্রামীণজীবনে তরজা সমাদর পায় বর্তমানে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা (বারুইপুর, জয়নগর, মগরাহাট, ফলতা, ডায়মন্ড হারবার, কাকদ্বীপ), উত্তর চব্বিশ পরগনা(বনগাঁ, কোড়াকাঠি, তুষখালি, দুর্গামণ্ডপ), নদীয়া, হাওড়া, হুগলী (বলাগড়, মগরা, আরামবাগ, তারকেশ্বর) জেলাগুলিতে তরজার সর্বাধিক বিকাশ লক্ষ করা যায়এছাড়াও বাঁকুড়া, মেদিনীপুর (পাঁশকুড়া, কাঁথি, তমলুক, নন্দীগ্রাম, ভগবানপুর), বীরভূম, মুর্শিদাবাদ প্রভৃতি জেলায় এর একটা ক্ষীণপ্রবাহ আছে গোলাম রসুল (সত্যপুর, ফলতা, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা), মুকুন্দমোহন বেরা (মছলন্দপুর, পূর্ব মেদিনীপুর), বসন্তকুমার নস্কর, কার্ত্তিক মল্লিক, অসীম সরকার, প্রফুল্ল সরকার, লক্ষ্মণচন্দ্র দাস, ভবানীবালা দাস, রঘুনাথ মণ্ডল [গোপালপুর, মহিশাদল, পূর্ব মেদিনীপুর], বঙ্কিমবিহারী প্রামাণিক, কোকিলচন্দ্র সিংহ, নকুলচন্দ্র বর, ধীরেনচন্দ্র মাইতি, মণিভূষণ প্রামাণিক, মদনমোহন দলুই -এঁরা তরজার পূর্বাপর সার্থক শিল্পী

তরজার বিষয় পরিণতি
একে প্রহেলিকাধর্মী প্রশ্ন থাকে, তার উপর ভাষা জটিল হলে গ্রামীণ জনসমর্থন হারাতে পারে এই ভয়ে তরজাগানের ভাষাকে যথাসম্ভব সরল, সহজ রাখার চেষ্টা থাকে ক্ষেত্রবিশেষে তরজা গ্রাম্য রসিকতা এতই প্রকট হয় যে সেক্ষেত্রে ভদ্রজনেরা একে অশ্লীলতাদোষে দুষ্ট করেন কিন্তু মনে রাখতে হবে এটা তরজার দোষ নয় গুণ গুণ কারণ তরজা কোনো রাখঢাক না রেখে গ্রামীণসংস্কৃতিকে সদর্পে প্রকাশ করবার স্পর্ধা রাখে

শুধু ভাষার ক্ষেত্রেই বা বলি কেন যেদিন থেকে নাগরিক সংস্কৃতির ধারা তরজাগান গ্রামীণজীবনে প্রবেশের ছাড়পত্র পেয়েছে সেদিন থেকেই দর্শক-শ্রোতার এই রদবদলের সাথে সাথে এর বিষয়ভাবনাতে প্রবেশ করেছে নানান পরিবর্তন এবং বৈচিত্র্য গ্রামের মানুষ বরাবরই ধর্মভাবনায় আপ্লুত, পুরাকাহিনিতে নিবিষ্টচিত্ত তরজার বিষয় তাই মূলত পৌরাণিক রামায়ণ, মহাভারত, বেদ-পুরাণের কাহিনি তরজার শিল্পীরা নিজেদের জ্ঞান এবং মেধা অনুযায়ী চয়ন করে আনেন সেই কারণে আগে সাধারণত কোনো বারোয়ারি পূজা-আর্চা উপলক্ষে তরজাগানের আয়োজন করা তোএক সময় মনে করা তো, শাশ্বত কিছু পুরাণকাহিনিকে হেঁয়ালি বা প্রহেলিকার মাধ্যমে আসরে পরিবেশন করাই তরজা গায়েনদের কাজ কিন্তু মনে রাখতে হবে পুরাণকাহিনি স্থাণু, অথচ সমাজ প্রতিনিয়িত গতিশীল এই গতির পথে পা বাড়ানোর জন্য তরজা প্রয়োজন ছিল নতুন নতুন বিষয়ের অবতারণা করা তাই দেখা যায় যে, সাম্প্রতিক নানান উদ্দেশ্যমূলক কাজে তরজাকে ব্যবহার করা হচ্ছে এখন নিরক্ষরতা দূরীকরণ, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, সমাজে মহিলাদের সমনাধিকার দান ইত্যাদি বিষয় নিয়েও তরজাগান পরিবেশিত হচ্ছেআশার কথা এই পথে হেঁটেই তরজা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে নিজের ঐতিহ্যকে

তরজার শিল্পমুল্য
রবীন্দ্রনাথ কবিগান সম্পর্কে বলেছেন 'কথার কৌশল, অনুপ্রাসের ছটা এবং উপস্থিতমত জবাবেই সভা জমিয়া উঠে এবং বাহবা উচ্ছ্বসিত হইতে থাকেতাহার উপরে আবার চার জোড়া ঢোল, চারখানা কাঁসি এবং সম্মিলিত কণ্ঠের প্রাণপণ চীৎকারবিজনবিলসিনী সরস্বতী এমন সভায় অধিকক্ষণ টিঁকিতে পারেন না[x] তরজার ক্ষেত্রেও দেখা যায় যে আসরে উপস্থিত দর্শকসাধারণের মনোরঞ্জনের জন্য গায়েনরা তাৎক্ষণিকভাবে ছড়াগুলি রচনা করছেন বলে সেগুলি মাত্রাতিরিক্ত দৈনন্দিন জীবনের ভাষা-আশ্রয়ী হয়ে পড়ছেঅথচ শিল্পসাহিত্য বরাবরেই এই কাজের ভাষা ছেড়ে ভাবের ভাষা নিয়ে কাজ করতে চায় সুতরাং সেই নিরিখে বিচার করে একথা অস্বীকার করবার কোনো কারণ নেই যে, তরজার শিল্পমূল্য বলে যদি কিছু থাকে তবে তা সাহিত্যের কিমাশ্চর্যম হিসাবে তবে শিল্পমূল্য যাই হোক না কেন দরবারী সাহিত্যকে সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রাগ্প্রস্তুতি হিসাবে কবিগান, তরজার ভূমিকা অপরিসীম; গুরুদেবের ভাষায় তাই বলতে হয়, '...এই নষ্টপরমায়ু কবি দলের গান আমাদের সাহিত্য এবং সমাজের ইতিহাসের একটি অঙ্গ, এবং ইংরাজ-রাজ্যের অভ্যুদয়ে যে আধুনিক সাহিত্য রাজসভা ত্যাগ করিয়া পৌরজনসভায় আতিথ্য গ্রহণ করিয়াছে এই গানগুলি তাহারই প্রথম পথপ্রদর্শক।'[xi]

আলোচনা শেষ করব তরজাগানের একটি আসর উপস্থাপনার অংশবিশেষ উল্লেখ করে;[xii] যথা,

বন্দনা এবং চাপান

শ্রীমনসুর আলি(সংগীত) আজ হরি তোমার রাঙা চরণ দেখাও আমারে
                            ও তোমার চরণ রাসে দেশবিদেশে
                            এই অধমের ঘনঘোরে, আজ হরি তোমার...
                            তুমি হও ভক্তের ভগবান, ঠাকুর ভক্তের ভগবান
                            রেখ আজ ভক্তগণের মান
                            দয়া করে আজ আসরে রেখে দিয়ে মান
                            যেমন অহল্যা ছিল পাষাণ ঠাকুর চরণ দিলে
                            তার শিরে, আজ হরি তোমার...
                            নামটি আমার মনসুর আলি হল
                            সেই মন্দির বাজার থানা
                            আবার পোস্টো অফিস পাঁচননেতে
                            জেলা চব্বিশ পরগনা
                            আমার তরজা শুরু কল্পতরু শ্যামসতী নাম,
                            যিনি
হতে মিলল আমার মনের মনস্কাম
                            আমার দ্বিতীয় গুরু কল্পতরু মাগো সুশীল নস্কর হল
                            উস্তির
নৈনানে হয় গুরুর নিবাস শুনুন না সকলো
                            একে
একে সকল কথা বলা কওয়া হল
                            আসর দিকে দিকে আমার অধম মন তুই চল
                            আমি ঢুলি কাঁধে ঢোল বন্দি আজকে সুরের মধ্যে কাঁসি
                            আরে বিনয় সহকারে বন্দি সুরের মায়া বাঁশি
                            তারপরেতে কী সুখেতে যে বাজাচ্ছে ভাই বাজনা
                            একে
একে বলে গেলাম শুনুন ষোল আনা
                            প্রতিবাদী লোকরে আমার প্রশ্নমালা দেবো
                            করে খাঁটি পরিপাটি সভায় এসে বল
                            
(কথা) বলতো অলকা একটা ছেলে একটা মেয়ের দিকে
                            তাকাল কিছুক্ষণ পরে মেয়েটি গর্ভবতী হল
                            (সংগীত) করে খাঁটি পরিপাটি সবাই মিলে বল
                            এই পর্যন্ত আমার পালা সাঙ্গ হয়ে গেল
                            আপনারা
দেবেন চরণ ধুলো
                            গৌর প্রেমানন্দে একবার হরি’, হরি বল

প্রতিপক্ষের বন্দনা এবং চাপানের উত্তর দান

শ্রীমতী অলকা গায়েন :(সংগীত) নম নম না সরস্বতী
                                     ভক্তিভরে আজ সভাতে জানাই গো প্রণতি
                                     বন্দিলাম কালীঘাটে প্রণাম করি জবার মালা দিয়ে
                                     আজি ধন্য হতে চাই মাগো তব চরণ ছুঁয়ে
                                     তাহলে এইপর্যন্ত মায়ের পায়ে প্রণাম মিটে গেল
                                     সর্ব দেবদেবীর পায়ে আমার প্রণাম রহিল
                                     আমার তরজাগানের গুরুদেব যিনি
                                     শিবপদ মণ্ডল হয় যার নাম
                                     আসরেতে যার পরশে গাই তরজাগান
                                     আমি এখান হতে চরণে প্রণাম জানাই
                                      পদধূলি মাথায় নিয়ে ধন্য হতে চাই
                                     ওনার ধুচনিখালি বসতবাড়ি বসিরহাট হয় থানা
                                    
 গুরু বলে সদায় জানাই প্রণাম চরণে 
                                     আমার প্রণাম করা হল-
                                      না পিতা মাতা আদি গুরু প্রণাম রহিল
                                     আমার জন্মদাতা পিতামাতার প্রণাম বারেবার 
                                     যাহাদের ঔরসে জন্মে মানবী আকার
                                      সব কথায় এখন আমি বাবু গো,
                                     করব না আর দেরি
                                    
 দাদা যে কথাটি বলে গেছে তারই জবাব করি

                                     (কথা) তবে দাদা যে প্রশ্নটি দিয়ে গিয়েছে যে,
                                     একটা
ছেলে একটা মেয়ের দিকে যেই না
                                     তাকিয়েছে সেই মেয়ের নাকি গর্ভ হয়েছে
                                     (সংগীত) না জরৎকারুমুনি সঙ্গে
                                     মনসামাতার বিয়ে হয়েছিল
                                     সেই গর্ভে আস্তিকমুনির জন্ম হয়েছিল
                                     এই তো তোমার কথার জবাব কথায় মিটে গেল
                                     খাঁটি খাঁটি বলিয়াছি শুনুন না সকল
                                     তবে এই কথাতে ঠকিয়ে দেবে মনে ভেবেছে
                                     আশা আমি এক ঢিলেতে ভাঙতে
                                    পারি বাস্তুঘুঘুর বাসা

মিলন

শ্রীশিবপদ মণ্ডল : (সংগীত) ...এইখানেতে সকল
                              বিষয় আমার বলা হল
                              আর ছোট্ট করে তরজাপালা সাঙ্গ এখন হল
                              উঠে সো এইবারেতে মিলন গাইতে হবে
                              মিলন গেয়ে তরজাগান শেষ করতে হবে

 শ্রীমতী গায়েন :(সংগীত) মা ভালো বাবা ভালো
                           
দুয়ের কাছে আদর পাই
                           আমার বিচারে আমি মাকে বড় করে যাই
                           ওই না আমার মাতা কালী হল-
                           মন্দিরেতে আছে ভালো,
                           তোমার বাবা দেখি পদতলে শুয়ে
                           ওই না চাইলে বড় করা যায়!

        শ্রী মণ্ডল : (কথা) আচ্ছা, আপনারা বিচার করুন,
                           (সংগীত) আমার বাবা যদি না থাকতো
                          কেমন করে জন্ম নিতো
                          আমার বাবা যদি না থাকতো
                          ওর মা ওকে কেমন করে কোলে পেতো
                          তো হওয়া হয়ে ঘুরে বেড়াতো মানব আকার পেতো না
                          মা ভালো বাবা ভালো আমরা দুয়ের কাছে আদর পাই
                          আমার বিচারে আমি বাবাই বড় বলতে চাই

শ্রীমতীগায়েন :(সংগীত)আমার মাতা সরস্বতী হল-
                          এনার কণ্ঠে ভর করিল,
                          তাই তো এমন গান করিল নইলে তো গান তো না
                          মা ভালো বাবা ভালো দুয়ের কাছে আদর পাই
                          আমার বিচারে আমি মাকে বড় করে যাই

        শ্রী মণ্ডল (কথা) বাঃ তবে তুমি জেনে রেখো মা-বাবার মধ্যে কে ছোট, কে বড় নিয়ে সারা দিনরাত তর্ক করলে ফুরাবে না কিন্তু আমরা মা-বাবার কাছে নুনের পুতুলের সমান সন্তান হয়ে পিতা-মাতার মধ্যে ছোট বড় বিচার করা আমাদের মহা অপরাধ তাই এইখানে ছোট্ট করে পালা সমাপ্ত করবো তার আগে বলতে চাই এই যে আমাদের কাছে, সন্তান সন্ততির কাছে মা বাবা উভয়ে সমানতুমি এখন আর ঝগড়া কর না আমরা তাদের কাছে নুনের পুতুলের সমান
                         (সংগীত) এখন এই পর্যন্ত সাঙ্গ হল
                         আমাদের কাছে পিতামাতা আদি ভগবান হল
                         যাবার বেলা হরি বল, হরি বলরে আজ সভায়
                          হরি বোল...’ 

 


[i] শাস্ত্রী, শিবনাথ রামতনু লাহিড়ী তৎকালীন-বঙ্গসমাজ ২য় সং. কলকাতা: এস. কে. লাহিড়ী এন্ড কো.,১৯০৯    
[ii] সেন, সুকুমার বাঙ্গালা সাহিত্যের কথা কলকাতা: কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৩১
[iii] রায়, ভারতচন্দ্র 'বিদ্যাসুন্দর,' রায়গুণাকর ভারতচন্দ্রের গ্রন্থাবলী কলকাতা: দে ব্রাদার্স, ১৯০২
[iv] ঘোষ, শ্রীসাবিত্রীবাংলা গানের ইতিবৃত্তকলকাতা: জিজ্ঞাসা, ১৯৬০
[v] দত্ত, মহেন্দ্রনাথকলিকাতার পুরাতন কাহিনী প্রথা ২য় সং. কলকাতা: মহেন্দ্র পাবলিশিং কমিটি, ১৯৭৫
[vi] সুকুমার সেন ত্বরজ (অর্থ কাঠামো, রীতি, ধরণ) অর্থে শব্দটি ব্যবহার করেছেন (সেন ১৯৪০, ১০৫২)
[vii]  বন্দ্যোপাধ্যায়, শ্রীহরিচরণ বঙ্গীয় শব্দকোষ প্রথম খণ্ড নিউ দিল্লী: সাহিত্য আকাডেমী, ১৯৩৩৪৬
[viii] সুকুমার সেন বলেছেন, 'তর্জ্জাগান ছিল বিতণ্ডা বা প্রতিযোগিতামূলক, ইহা হইতে দাঁড়া কবির সৃষ্টি হয়...তর্জ্জা, খেউড় পাঁচালীর সংমিশ্রণে হয় পরবর্ত্তীকালের কবিগান'
[ix] দত্ত, মহেন্দ্রনাথকলিকাতার পুরাতন কাহিনী প্রথা ২য় সং. কলকাতা: মহেন্দ্র পাবলিশিং কমিটি, ১৯৭৫
[x] ঠাকুর, রবীন্দ্রনাথ 'কবি-সংগীত,' লোকসাহিত্য রবীন্দ্র-রচনাবলী ৬ষ্ঠ খণ্ড কলকাতা: বিশ্বভারতী প্রকাশনা ১৯৬৪, ৬৩২৩৮ 
[xi] ঠাকুর, রবীন্দ্রনাথ 'কবি-সংগীত,' লোকসাহিত্য রবীন্দ্র-রচনাবলী ৬ষ্ঠ খণ্ড কলকাতা: বিশ্বভারতী প্রকাশনা ১৯৬৪, ৬৩২৩৮ 
[xii] দ্রষ্টব্য: তরজাগানের অংশটি ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ তারিখে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার দক্ষিণ দুর্গামণ্ডপ অধিবাসিগণের আয়োজিত মনসামেলা উপলক্ষে অনুষ্ঠিত একটি তরজাগানের আসর থেকে সংগৃহীত তরজাশিল্পিরা হলেন, মূলগায়েন- শ্রীশিবপদ মণ্ডল, শ্রীমনসুর আলি এবং শ্রীমতী অলকা গায়েন এবং সহশিল্পী তথা যন্ত্রানুসঙ্গে শ্রীশিশুবর সরদার শ্রীগোবিন্দ বিশ্বাস

 

তথ্যসূত্র
গোস্বামী, শ্রীকৃষ্ণদাস কবিরাজ (বিরোচিত) শ্রীশ্রীচৈতন্যচরিতামৃত কলকাতা: শ্রীশরচ্চন্দ্র চক্রবর্ত্তী (প্রকাশক) ১৯১৪  
ঘোষ, শ্রীসাবিত্রীবাংলা গানের ইতিবৃত্তকলকাতা: জিজ্ঞাসা, ১৯৬০
চক্রবর্তী, জাহ্নবীকুমারপ্রাচীন ভারতীয় সাহিত্য বাঙালীর উত্তরাধিকার ১ম খণ্ড কলকাতা: ডি. এম. লাইব্রেরী, ১৯৩০
চক্রবর্তী, নিরঞ্জনঊনবিংশ শতাব্দীর কবিওয়ালা বাংলা সাহিত্য কলকাতা: ইণ্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড পাব.কোং.প্রা.লি., ১৮৫৮   
চক্রবর্তী, নিশীথ তরজা গান কলকাতা: লোকসংস্কৃতি আদিবাসী সংস্কৃতি কেন্দ্র, ২০০৩
ঠাকুর, রবীন্দ্রনাথ 'কবি-সংগীত,' লোকসাহিত্য রবীন্দ্র-রচনাবলী ৬ষ্ঠ খণ্ড কলকাতা: বিশ্বভারতী প্রকাশনা ১৯৬৪, ৬৩২৩৮ 
দত্ত, মহেন্দ্রনাথকলিকাতার পুরাতন কাহিনী প্রথা ২য় সং. কলকাতা: মহেন্দ্র পাবলিশিং কমিটি, ১৯৭৫
বন্দ্যোপাধ্যায়, শ্রীহরিচরণ বঙ্গীয় শব্দকোষ প্রথম খণ্ড নিউ দিল্লী: সাহিত্য আকাডেমী, ১৯৩৩৪৬
রায়, ভারতচন্দ্র 'বিদ্যাসুন্দর,' রায়গুণাকর ভারতচন্দ্রের গ্রন্থাবলী কলকাতা: দে ব্রাদার্স, ১৯০২
শাস্ত্রী, শিবনাথ রামতনু লাহিড়ী তৎকালীন-বঙ্গসমাজ ২য় সং. কলকাতা: এস. কে. লাহিড়ী এন্ড কো., ১৯০৯    
সেন, সুকুমারবাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস (আদি হইতে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্দ্ধ পর্য্যন্ত) কলকাতা: মডার্ন বুক এজেন্সী, ১৯৪০
সেন, সুকুমার বাঙ্গালা সাহিত্যের কথা কলকাতা: কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৩১। 
দে, সুশীল কুমার।উনিশ শতকের বাঙালি সাহিত্যের ইতিহাস (১৮০০১৮২)। কলকাতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯১৯