24 Feb 2018 - 07:00 to 09:30
Hyderabad , Telangana
Along with history and monuments, Charminar houses a variety of
24 Feb 2018 - 17:30 to 19:30
Vijayawada , Andhra Pradesh
Vijayawada is known for the softest idlis and crispy dosas but
25 Feb 2018 - 08:00 to 10:00
Fort Kochi , Kerala
The first European township in India was built as a fort city by

Workspace

Gajan Songs of South 24 Parganas: A Survey of Folk Theatre

দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার ডায়মন্ড হারবার, জয়নগর, কাকদ্বীপ, কুলপি প্রভৃতি থানার অন্তর্গত বহু এলাকায় চৈত্রমাসের সংক্রান্তিতে চড়কোৎসব উপলক্ষ্যে পূজা আয়োজকের বাড়িবাড়ি রাতেরবেলা গানবাজনা অনুষ্ঠিত হয়। এলাকায় এই লোকাঙ্গিকের নাম ‘গাজন গান’। কোথাও কোথাও একে ‘চৈতেগাব’ও বলে। চৈত্রমাসে অনুষ্ঠিত ‘গাঁ’-জনের উৎসব তাই ‘চৈতেগাব’। স্থানীয় মানুষেরা কাজের অবসরে ছোট ছোট দল গঠন করে এই গান পরিবেশন করে থাকেন।

 

এই সময় সাধারণত যে সব পালা পরিবেশিত হয় তা সবই পৌরাণিক, হর-কালীকে নিয়ে রচিত। চড়কের শিবের সঙ্গে এই সব পালাগুলির যোগ অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। আজও কাকদ্বীপ থানার কামারের হাটের জোড়াপোল এলাকায় প্রতি বছর চৈত্র মাসে এই উৎসব উপলক্ষে ২৭, ২৮ এবং ২৯ তারিখে গাজনদলগুলির মধ্যে প্রতিযোগিতার আসর বসে। গাজনের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে পুঁজিপতিরা নিজস্ব দলগঠন করে বছরচুক্তি কুশীলব এবং অন্যান্য লোকজন রেখে বিভিন্ন আসরে পালার মঞ্চায়ন করে থাকেন।    

 

তবে এইসব এলাকার গাজন গানের জনপ্রিয়তা যত না ধর্মমূলকবিষয় কেন্দ্রিক তার চেয়ে বেশি সামাজিক নানান অসংগতিমূলক কাহিনী আদিরসের সংমিশ্রণে রঙ্গরসিকতার মাধ্যমে আসরে পরিবেশন করার কারণে। যদিও এখানকার গাজন গানের মূল উৎস চৈত্রমাসের চড়কোৎসবের সেই শিব, কিন্তু বর্তমানে সেই সময় এবং বিষয়িকে অতিক্রম করে গাজন গান অনেকখানি বিশ্বায়নে সামিল হয়েছে। তাই এই অঞ্চলের হাল আমলের প্রায় ২৫-৩০খানা গাজনের দল তারা নিজেরা চিৎপুরের অপেরাপার্টির মত দল গঠন করে দুর্গাপূজার ‘ষষ্ঠী টু জ্যৈষ্ঠি’ পর্যন্ত নিজেদের এলাকার বাইরেও বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে গান পরিবেশন করেন। যাত্রাপার্টির মত সুউন্নত মঞ্চ ও আলোক সজ্জা, জমকালো পোশাক, দেশি বিদেশি নানান যন্ত্রানুসঙ্গের সঙ্গে এরা বিভিন্ন বিষয়কেন্দ্রিক ছোটছোট পালাবদ্ধ কাহিনী  আসরে অভিনয় করে বটে কিন্তু এদের পালায় সংলাপের চেয়ে আগাগোড়া ছেয়ে থাকে গান। একমাত্র পৌরাণিক পালা ছাড়া অন্যান্য গানের ভাষা সবই প্রায় আদি রসাত্মক এবং সুরগুলি সাম্প্রতিককালের বাংলা অথবা হিন্দি সিনেমার গানের আদলে তৈরি। তবে এই আদিরসের গানের মধ্যেও আবার অনেক সময় সমাজের কোনো গভীরতর সত্যের নির্দেশ থাকে। ব্যাঙ্গাত্বমূলক রসিকতার মধ্যেও কখনও কখনও লুকিয়ে থাকে গভীরতর কোনো সত্য। যেমন এই ধরণের একটি গানে পাই:

কর্ম কর ফলের চিন্তা করনা ইনশান।

যেমন কর্ম তেমনি ফল দেবে খোদা ভগবান।।

এ যে গীতার কিখন, এ যে গীতার লিখন।

দুদিন এলি এই ভবে, দুদিন পরে যেতে হবে,

খামারবাড়ি খামারজমি, সময় হলে যাবে ছাড়ি,

হরে কৃষ্ণ হরে বলে, নিদান কাল আসবে যবে,

শেষের দিনে সেজন বিনে নাইরে পরিত্রাণ।

যেমন কর্ম...খোদা ভগবান।।১

 

গীতায় বলা হয়েছে, 'কর্মণ্যেবাধিকারস্তে মা ফলেষু কদাচন' (শ্রীমদ্ভগবতগীতা, ২:৪৭)। এখানে উল্লেখিত গাজনগানের অংশটি যেন স্পষ্টতই তারই নির্দেশক।

 

গাজনের পালাগুলি সবই পূর্ব রচিত। রচয়িতারা এখানে ‘গাজনমাস্টার’ নামে পরিচিতি লাভ করেন। জয়নগর থানার বাপুলিরচক এলাকার এইরকমই একজন পেশাদার ‘গাজনমাস্টার’ শ্রীস্বপন গায়েন এবং এখানকার ‘সরস্বতী গাজন সংস্থার’ দল পরিচালক শ্রীসুনীল হালদারের মুখে শুনেছি, কোনো আসরে গাজনগান পরিবেশনের জন্যে একটা দলকে এক মরসুমে বিভিন্ন বিষয়ধর্মী একাধিক পালা প্রস্তুত রাখতে হয়। প্রতি বছর উল্টো রথের দিন শুরু হয় নতুন পালার শুভারম্ভ ও কুশীলব বাছাইয়ের পর্ব এবং সেই সঙ্গে তাদের আগত সম্বৎসরের লেনদেনের হিসাব। তারপর সারা বর্ষাকাল জুড়ে চলে পালাগুলির মক্স বা রিহার্সাল। কুশীলবরা আউস ধানের চাষবাস কিংবা দৈনন্দিন নানান কাজকর্ম সেরে সন্ধ্যাবেলা হাজির হন ‘রিহার্সাল রুমে’। সেখানে অধিক রাত পর্যন্ত চলে পালাগুলির মহড়া।

 

ধর্মীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক প্রভৃতি বিষয় নিয়ে রচিত ছোট বড় পালা মিলিয়ে অভিনীত একেকটি গাজন আসরের সময়সীমা সাধারণত দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা হয়ে থাকে। গাজন আসরের শুরু এবং শেষের পালা দুটি হয় ধর্মমূলক বা পৌরাণিক।  সামাজিক, রাজনৈতিক প্রভৃতি বিষয়নির্ভর কাহিনিগুলিতে সমাজের নানান অসংগতি হাস্যকর ভাঁড়ামির দ্বারা ‘লোক বুঝাইতে’ তুলে ধরা হয়।

 

‘গাজন গানে’র একটি ধর্মমূলক কাহিনির মঞ্চায়ন। তবে এই একবিংশশতকের যুগেও পাড়াগাঁয়ের অন্যান্য বহু লোকনাটকের মত এই এলাকার গাজনগানেও নারীচরিত্রে সেই পুরুষদেরই আধিপত্য। দলে এই ধরণের নারীবেশধারী পুরুষ অভিনেতাদের ‘ফিমেল চরিত্র’ বলে। নারী চরিত্রে অভিনয়ের সুবাদে দর্শকদের কাছ থেকে কেউকেউ ‘গাজন লক্ষ্মী’ ‘গাজন প্রিয়া’ ইত্যাদি খেতাব লাভ করেন। আসলে আমার নিজেরই একাধিক গাজনগানের আসরে উপস্থিত থেকে মনে হয়েছে, এতে আদিরস এবং মোটা দাগের রসিকতা এত বেশি যে কোনো স্বাভাবিক লাজুক স্বভাবা মহিলার দ্বারা পুরুষের পাশাপাশি দাঁড়িয়ে অভিনয়ের সাবলীলতা আনা সম্ভব নয়। উদাহরণ স্বরূপ একটি ‘গাজন পালা’র কিয়দংশ দ্রষ্টব্য:

 

বাবা:      রামের হাতে রামের বোতল সীতা খায় বোতকা-

বৌমা:      চারশ’ চল্লিশ ভোল্টে মেরে দেব ঝটকা।

চাকর:      করব এবার বস্ত্র হরণ। কলির কৃষ্ণ দাঁড়িয়ে, সাথে দুঃশাসন।

ছেলে:      চোর বদনাম দিয়ে তোর থানায় করব ডায়েরি-

বাবা:      জিলাপি বাদ দিয়ে তুই চমচম খা মায়রি।

বৌমা:     চাকরের এ কী কথা?

বাবা:      আমি তোর ভাতারের জন্মদাতা,......২   

 

হয়ত সেই কারণে আজও গাজনগানে সমাজের মহিলারা ব্রাত্য হয়ে আছে এবং এইখানেই গাজনগান বাংলায় লোকনাটকের ধারা বজায় রেখেছে। বিলিতি যাত্রা বা স্বদেশী থিয়েটারের আদলে আজও ‘গাজন সংস্থা’গুলি নারী চরিত্রে নারীদের প্রবেশাধিকার বরদাস্ত করেনি।

 

কিন্তু সে যাইহোক, তীব্র ব্যঙ্গ, তির্যক রসিকতার মাধ্যমে পালা পরিবেশন করে সমাজকে শুধরনোর যে দায়ভার এই অঞ্চলের গাজনশিল্পীরা নিয়েছেন তা এক অর্থে সমাজ হিতৈষণামূলক কাজের নামন্তর বলা যেতে পারে। এবং কোনোকালে যদি কোনো স্বার্থপর মানুষ তার প্রতিবেশী বা নিকট আত্মীয়ের অমঙ্গল কামনা না করে তাকে ভালবাসতে শেখে, আধুনিক শিক্ষার ভুল পথকে বর্জনীয় বলে মনে করে যদি কারও পুত্রবধূ আপন বৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়িকে পিতৃ-মাতৃজ্ঞানে সেবা করতে শেখে, পরস্ত্রী লোলুপতা নিন্দনীয় বলে যদি কোনো কামুক ব্যক্তি নিজেকে সংবরণ করে নেয়, প্রত্যেক জাতির মত বাঙালিরও নিজস্ব কিছু সংস্কার, রীতি-নীতি, আচার-আচারণ আছে এই বিশ্বাসে যদি এই জাতি আপন সংস্কৃতিকে ঘৃণা না করতে শেখে, তবে বুঝতে হবে সমাজের এইসব শুভপ্রদ কাজের জন্যে এই গজনের নিশ্চয় কিছু ভূমিকা আছে। 

 

———

১। গানটি ২০১১ সালে কাকদ্বীপ ‘শিল্পীতীর্থ গাজন সংস্থা’র সৌজন্যে সোনারপুর থানান্তর্গত ক্ষুদিরাবাদগ্রামে একটি আসর মঞ্চায়ন কালে সংগৃহীত। এটি তাদেরই পরিবেশিত একটি পালার অংশ বিশেষ।

 

২। পালাটির নাম ‘রামের হাতে রামের বোতল’। এটি দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা জেলার জয়নগর থানার অন্তর্গত ঘটি হারানিয়ার ‘মা লক্ষ্মী গাজন সংস্থা’র কলাকুশলী দ্বারা অভিনীত  ১৪২০ (ইং ২০১৩-১৪) সালের একটি জনপ্রিয় সামাজিক গাজন পালা।  রচয়িতা- শ্রী স্বপন কুমার গায়েন। ভবানী মারি, দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা।

Charak festival is held each year at the end of the Chaitra month. On this ocassion musical performances are arranged in the puja organizer’s house in places like Diamond Harbour, Joynagar, Kakdwip, Kulpi in the South 24 Parganas district. These folk performances are locally known by the name of ‘Gajan Gaan’. In some places people also call it ‘Chaitegaab’. Since this festival is organized by the village folk (‘গাঁ’-জন) in the month of Chaitra(চৈত্র> চৈত Chaita>Chaita) , the name ‘Chaitegaab’ has some pertinence. Local people present these songs in small groups in their times of relaxation. 

 

The paalaas which are performed during this time are all mythical (puranic) in content, based mainly on stories of Shiva and Kali. The paalaas are closely related to the Shiva of  Charak. Competitions are held between different groups of Gajan Gaan on the 27th, 28th, 29th Chaitra in Jorapal area of Kamarer Haat under Kakdwip police station even to this day. Those who have financial means build groups of their own with kushilabs, appointed on a year’s contract, and other people. Once the groups have been formed, they present their paalaas in various gatherings.

 

But the popularity of Gajan Gaan in this areas is not solely because of their religious content. Their popularity is mainly due to the fact that they present stories about social tensions in a witty and humourous way replete with explicit sexual references. Though the main source of Gajan Gaan is Shiva of the Charak festival, in recent days it has moved beyond this theme and started participating in ‘globalisation’.  For example, in recent days almost 25-30 groups of Gajan Gaan have organized themselves like opera groups of Chitpur and during Durga Puja, they go from place to place beyond their own region to perform their songs. Like Jatra groups they perform on raised platforms accompanied by lighting, colourful costume and various Indian and Western instruments. The paalaas they present are short and based on a variety of themes but in all of them songs play more important a role than dialogues. In fact, from the beginning to the end they abound in songs. Except in the mythical paalaas, the language of these songs contain explicit sexual references and their tunes are taken popular Hindi or Bengali films. However, at times even the songs of such nature contain some deeper social truth. Their humourous and sarcastic language does not come in the way of such truth being communicated. This particular song can be taken as an example:

 

karma koro pholer chinta korona insaan

jemon kormo temni phol debe khoda bhogoban

e je gitar kikhon, e je gitar likhon

dudin eli ei bhobe, dudin pore jete hobe

khamarbari khamarjomi somoy hole jabe chhari

hore krishna hore bole, nidan kal asbe jobe

shesher dine se jon bine nai re poritran

[Do your work, don’t think of the consequences, oh insaan

You shall reap as you sow, says Khoda Bhagavan

This is said in Gita, in Gita it is written

You have come to this world for a mere two days and will leave in another two

Farmhouse and farmlands—you have to leave all behind

Say Hare Krishna Hare, when the final day comes

WIthout Him there is no deliverance on that last day][1]

 

This undoubtedly reminds one of one of the most popular verses of the Bhagvad Gita. ‘karmanyevadikaraste ma phaleshu kadachana’ (2:47).

 

All the paalaas of Gajan are written beforehand. The composers are locally known as ‘Gajanmaster’. Mr Swapan Gayen is one such professional ‘gajanmaster’ who lives in the Bapulirchowk area under Joynagar police station. Another ‘gajanmaster’ of this area is Mr Sunil Halder, the director of the group ‘Saraswati Gajan Samstha’. He told me that a group of Gajan Gaan has to keep a number of paalaas, centred on different themes, ready for each season. The preparation for a new paalaa and the process of selecting kushilabs (performers) as well as the plan for the coming year’s budget begin on the ocassion of Ulto Rath each year. Rehearsals continue for the entire monsoon. After the whole day’s work, performers gather in the rehearsal room in the evening. There they practise till late night.

 

A paalaa, based either on religious or social and political issues, usually lasts for two to two-and-a-half hours. The first and last plays in a Gajan programme are inevitably religious ones. In the paalaas which are of a more social or political nature, the inconsistencies in social life are shown in a witty manner, so that people easily get their essence.

 

But as in most other folk theatrical performances, in Gajan Gaan also all the female characters are played by male actors, even in this 21st century. The male actors in female clothes are called in Bangla ‘female choritro’ (literally, female character). Many such actors get names like ‘Gajan Lakshmi’, ‘Gajan Priya’ etc. as a result of their playing the part of female characters. Having been present in many Gajan Gaan performances, I have realized that these performances are so full of explicit sexual content and bold humour that it may not be possible for female actors to stand side by side with male actors on the stage and play the characters with natural ease. One can look at an extract from a Gajan Gaan:

 

Father: Ram has a bottle of rum in his hands, Sita drinks botka (Vodka)

 

Daughter-in-law: I will give a jhatka of 440 volts.

 

Servant: I will perform the vastra-haran now/I will strip you now. The Krishna of Kali yuga is standing, next to Duhshasan.

 

Son: Accusing you of theft, I shall lodge a police diary.

 

Father: Leaving the jilipi aside have chamcham, mairi​.

 

Daughter-in-law: How come a servant speaks thus?

 

Father: I am the father of your bhatar (provider)[2]

 

Perhaps for this reason women have still not found entry into Gajan Gaan performances, and in this it continues the tradition of other folk theatrical forms of Bengal. Unlike Jatra, the Gajan Gaan groups have not yet accepted the presence of female actors on stage.

 

Be it as it may, the way the Gajan artists present their songs through the use of sarcasm, sharp irony and twisted humour comment on the existing state of society. And this social commentary, communicated in a sharp and explicit language, can be said to be the contribution of the Gajan artists to social change.

 

 

[1] This song was collected in 2011 during a performance in Khudirabad village (Sonarpur police station) by the ‘Shilpiteertha Gajan Samstha’ of Kakdwip. 

 

[2] The name of this paalaa is Ram has a Bottle of Rum in his hands. This is a popular production of the ‘Ma Lakshmi Gajan Samstha’ of Haraniya under Joynagar police station in South 24 Parganas. It was performed in the year 2013-14 and is written by Swapan Kumar Gayen (Bhavani Mari, South 24 Parganas).